যে আইনটি উপেক্ষিত হচ্ছে by জিয়া হাবীব আহসান
![]() |
| লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে |
জাতিসঙ্ঘের
সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ মিয়ানমার
থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। আমাদের সংবিধানের
অনুচ্ছেদ ২৫-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারণের
ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘ সনদকে সম্মান দেখাবে। ১৯৭২ সালের
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এ বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যক্তির জীবন ও
স্বাধীনতার অধিকারকে বঞ্চিত করা যাবে না আইনগত কোনো পদ্ধতি বা উপায় ব্যতীত।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া-না হওয়া বিবেচ্য নয়। নতুন-পুরনো মিলে
প্রায় ১০ লাখ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী। নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য
বাংলাদেশের নিজস্ব শরণার্থী আইন নেই। ১৯৫১ সালের শরণার্থীবিষয়ক কনভেনশনে
সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ আছে, আর ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে সে কনভেনশনের সুরক্ষা
দেয়া হলেও বাংলাদেশ এ দু’টির কোনোটিই স্বাক্ষর করেনি। ফলে এ ক্ষেত্রে আইনি
কাঠামোর শূন্যতা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
শরণার্থীবিষয়ক আইন থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো আইন না থাকায় আশ্রয় নেয়া এ
বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা দেয়া দুরূহ হতে পারে। অবিলম্বে
বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য
একটি আইনি কাঠামো তৈরির জন্য সরকার, আইনপ্রণেতা, বিচারপতি ও আইন কমিশনের
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন না উদ্বাস্তু, নাকি শরণার্থী,
তা বোঝা দরকার।
ÔRefugeeÕ শব্দের অর্থ বোঝাতে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু উভয় শব্দই বাংলায় চালু আছে। সব বাস্তুচ্যুত বা বাস্তুত্যাগী ব্যক্তি আন্তর্জাতিকভাবে Refugee-এর সংজ্ঞায় পড়ে না। UNHCR-এর প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত নির্দেশনায় শরণার্থীদের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছেÑ ‘যারা বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতাদর্শ অথবা কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে নিশ্চিত নিগ্রহের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং ফিরে আসতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক।’ অর্থাৎ শরণার্থীরা হলো, জীবন ও স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে দেশত্যাগী পলাতক নারী-পুরুষ ও শিশু। শরণার্থীদের মর্যাদাসংক্রান্ত ১৯৫১ সালের কনভেনশন অনুযায়ী শরণার্থী মানেÑ ‘এমন একজন ব্যক্তি, যার নিজ জনগোষ্ঠী, ধর্ম, জাতীয়তা, বিশেষ কোনো সমাজের সদস্যপদ অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সুপ্রতিষ্ঠিত যন্ত্রণা ভোগের আশঙ্কা রয়েছে, তার নিজ দেশের বাইরে অবস্থান করছে এবং সে তার দেশের সুরক্ষা পেতে অনিচ্ছুক বা তার দেশ তাকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম বা যে ব্যক্তি যন্ত্রণা ভোগের আশঙ্কার কারণেই তার নিজ দেশে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক।’ ১৯৫১ সালের কনভেনশনে গৃহীত সংজ্ঞার এই দুর্বলতাও আছে। ১. গৃহীত এই সংজ্ঞাটিতে সার্বজনীনতার চেয়ে আঞ্চলিকতাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। সংজ্ঞাটি স্নায়ুযুদ্ধ ও ইউরোপকেন্দ্রিক জটিলতার ফল। এ সংজ্ঞায় টেকসই আশ্রয় ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, কিন্তু স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এতে উল্লেখ নেই। ২. এ সংজ্ঞায় দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে : (ক) প্রত্যাবাসন ও (খ) রাষ্ট্রীয় দায়, যেটা শরণার্থী প্রবাহ ঘটায়। ৩. শরণার্থীদের যন্ত্রণা ভোগের যে কারণগুলো সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে, তা খুব সীমিত। ৪. জীবন রক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকার। তাই খাদ্যসঙ্কটের কারণেও কেউ নিজেকে শরণার্থী হিসেবে দাবি করতে পারে। ৫. ওআইইউ কনভেনশন ১৯৬৯ সালে একটি আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সে চুক্তিতে শরণার্থীর এ সংজ্ঞার সাথে নি¤েœাক্ত বিষয়টিও যুক্ত করা হয়Ñ ‘যে ব্যক্তি কোনো বহিরাগত আগ্রাসন, পেশা, বিদেশী কর্তৃত্ব বা এমন কোনো ঘটনা যা তার দেশের সরকারের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ইত্যাদি কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়, সেও শরণার্থীর অন্তর্ভুক্ত হবে।’
আরো অনেক কারণ আমরা দেখতে পাই, যা সংজ্ঞায় স্থান পায়নি। শরণার্থী হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য কিছু উপাদান বাঞ্ছনীয় : ১. নিজ দেশ বা জাতীয়তার বাইরে অবস্থান করতে হবে। ২. তারা তাদের দেশের সুরক্ষার সুযোগ গ্রহণে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হতে হবে। ৩. এ ধরনের অক্ষমতা বা অনিচ্ছুকতা যন্ত্রণা ভোগের সুপ্রতিষ্ঠিত আশঙ্কার কারণে হতে হবে। ৪. উপাদানে যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তা অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে।
একজন সৈনিক বা অপরাধী শরণার্থী হতে পারে কি না। একজন শরণার্থী আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে গেলে সে কখনো শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সবার চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কোনো কার্যের অপরাধী তার পলায়ন অবস্থায় শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না। অর্থাৎ কোনো অরাজনৈতিক অপরাধী শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না; কিন্তু সাধারণ অপরাধের অপরাধী যদি রাজনৈতিক কারণে দেশ থেকে পালিয়ে বেড়ায়, তাহলে সে শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যদি কেউ অপরাধী হয় তাহলে অবশ্যই শরণার্থী হতে পারে। যুদ্ধাপরাধীর শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় লাভের প্রশ্নে বলা যায়, যে ব্যক্তি বা যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে বা গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে, তারা শরণার্থী বলে বিবেচিত হবে না। যদি অনেকের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের অপরাধী চিহ্নিত করা না যায় তাহলে UNHCR আন্তর্জাতিক সংগঠনের আশ্রয় নেবে এবং অন্য যেকোনো আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর আস্থাশীল থাকবে।
শরণার্থীদের প্রকারভেদ
Statutory Refugee বা বিধিবদ্ধ শরণার্থী : ১৯৫১ সালের কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১ ক (১) চ-তে নি¤েœাক্ত ব্যক্তিগণকে বিধিবদ্ধ শরণার্থী বলা হয়েছেÑ ক. ১৯২৬ সালের ১২ মে এবং ১৯২৮ সালের ৩০ জুনের অ্যারেঞ্জমেন্টের অধীনে যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খ. ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর ও ১৯৩৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির কনভেনশনে যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গ. ১৯৩৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রটোকল বা আইআরসির সংবিধান অনুযায়ী যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
Mandate Refugee : ১৯৭৫ সাল থেকে সাধারণ পরিষদ, ECOSOC ও UNHCR-এর নির্বাহী কমিটি ইউরোপের বাইরের শরণার্থীদের অবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মানব গড়া ও প্রকৃতিপ্রদত্ত যেকোনো ধরনের ভিকটিমকে (যারা শরণার্থী) সাহায্য করার জন্য UNHCR-কে ক্ষমতা দেয়া হয়। তখন UNHCR কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যেকোনো ব্যক্তি সে ১৯৫১ সালের কনভেনশন অনুযায়ী শরণার্থী হোক বা না হোক, Mandate Refugee হিসেবে বিবেচিত হবে। Host Country তাকে স্বীকৃতি দেবে কি দিচ্ছে না, তা বিবেচ্য নয়।
Temporary Protection (অস্থায়ী সুরক্ষা)
অস্থায়ী সুরক্ষা হচ্ছে তাৎক্ষণিক ও অল্প মেয়াদি সুরক্ষা যে দেশে পলায়ন করা হয়েছে, সে দেশ কর্তৃক যা গৃহীত হয়। এ পালানো সশস্ত্র সঙ্ঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য কোনো যন্ত্রণা ভোগের কারণে হতে হবে। অস্থায়ী সুরক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে আশ্রয় নিশ্চিত করা। এটা করা হয়েছিল তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে পলায়নরত জনগণের জন্য। সাধারণত অস্থায়ী শরণার্থী বা সুরক্ষার চর্চা সীমিত সময়ের জন্য করা হয়, যাতে গ্রহণকারী রাষ্ট্রের ওপর তা বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। শরণার্থী অথবা আশ্রয় প্রার্থনাকারীর চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল অন্য রাষ্ট্র। যে দেশ অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো শরণার্থী গ্রহণ করে তাকে Country of First Refugee বলা হয়। অস্থায়ী সুরক্ষা নীতির অধীনে শরণার্থী বা আশ্রয় প্রার্থীর সীমিত অধিকার থাকে। প্রয়োজন ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে এ নীতি উদ্ভাবিত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো লাখ লাখ শরণার্থীর আশ্রয় মঞ্জুর করেছে। ১৯৬৯ সালের OAU কনভেনশনকে আফ্রিকার দেশগুলো আশ্রয় মঞ্জুরের জন্য আইনি ভিত্তি মনে করে।
Refugee Surplace
যে ব্যক্তি নিজস্ব কোনো বৈধ কারণে অন্য দেশে গমন করে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবস্থার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফিরে এলে তার যন্ত্রণাভোগের আশঙ্কা থাকে এবং এ কারণে যদি সে নিজ দেশে ফিরে আসতে না চায় বা তার দেশ তাকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে না চায়, তাকে Refugee Surplace বলা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি সে পূর্ববর্তী রাষ্ট্রে ফিরে যেতে না পারে এবং তা যদি যন্ত্রণাভোগের সুপ্রতিষ্ঠিত কারণে হয়, তাহলে সেও Refugee Surplace হবে।
Stateless Person বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি
যে ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে নাগরিকত্ব নেই, তিনিই রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি। তিনি কোনো দেশের কাছে নাগরিকত্ব দাবি করতে পারেন না। এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের কনভেনশনের আর্টিক্যাল ১-এ বর্ণিত আছে। Open Society Justice Initiative -এর নির্বাহী পরিচালক James Cold Stone রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘তারা চরম অবহেলিত মানবগোষ্ঠী। এ সমস্যা এখনো আছে এ কারণে যে, জাতিরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া বা কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে সীমাহীন স্ববিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে।’
জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিরা এমন বিস্মৃত বা অবহেলিত অবস্থায় আটকে আছে যে, তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো আইনি সুরক্ষাই (যেমনÑ স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি) পায় না। নানা কারণে রাষ্ট্রহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন আইনি জটিলতা, পিতা-মাতার নাগরিকত্ব না থাকলে সন্তানদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইনের জটিলতা, প্রশাসনিক জটিলতা, নাগরিকত্ব হারানো ও বাতিল কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতিসত্তা বিলোপ কিংবা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিলোপ ইত্যাদি।
মিয়ানমার সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর গণহত্যার শিকার হয়ে যারা জীবন বাঁচাতে ভিটেমাটি ও দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুহারা বিপন্ন, তাদের দেশে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাদের বলপূর্বক প্রত্যাবর্তন করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে, কারণ তাদের ‘পুশব্যাক’ করা মানে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। তাদের আশ্রয়লাভের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের এ মুহূর্তে এ বিপুল বাস্তুহারা লোকজনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে তারা সুরক্ষা পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ইত্যাদি সংক্রান্ত সঙ্কট সৃষ্টি না হয়। এতে শরণার্থীদের উপযুক্ত আইনি মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেয়া যাবে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ করা সম্ভব হবে। এতে শরণার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনসহ তাদের তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রে আশ্রয়সহায়তা প্রদান করা যায়। সংশ্লিষ্ট সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে অথবা ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় তারা প্রত্যাবাসন করতে চাইলে দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা এবং শরণার্থী পরিবারগুলোকে একত্রীকরণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইউনিসেফ বলছে, রোহিঙ্গাশিবিরে ১৩ শতাধিক শিশু অভিভাবকহীন। এদের অনেকের মা-বাবা আরাকানে সহিংসতায় নির্মম হত্যার শিকার, নয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘ বিপদসঙ্কুল পথ পেরিয়ে আসার সময় হারিয়ে গেছে। এদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশেষ দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। সরকারের উচিত, এ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতা বা জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় দ্রুত তাদের কান্ট্রি অব অরিজিন বা উৎস রাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো। যাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়, তাদের তৃতীয় দেশে অভিবাসনই একমাত্র সমাধান।
লেখক : আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী
ÔRefugeeÕ শব্দের অর্থ বোঝাতে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু উভয় শব্দই বাংলায় চালু আছে। সব বাস্তুচ্যুত বা বাস্তুত্যাগী ব্যক্তি আন্তর্জাতিকভাবে Refugee-এর সংজ্ঞায় পড়ে না। UNHCR-এর প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত নির্দেশনায় শরণার্থীদের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছেÑ ‘যারা বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতাদর্শ অথবা কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে নিশ্চিত নিগ্রহের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং ফিরে আসতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক।’ অর্থাৎ শরণার্থীরা হলো, জীবন ও স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে দেশত্যাগী পলাতক নারী-পুরুষ ও শিশু। শরণার্থীদের মর্যাদাসংক্রান্ত ১৯৫১ সালের কনভেনশন অনুযায়ী শরণার্থী মানেÑ ‘এমন একজন ব্যক্তি, যার নিজ জনগোষ্ঠী, ধর্ম, জাতীয়তা, বিশেষ কোনো সমাজের সদস্যপদ অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সুপ্রতিষ্ঠিত যন্ত্রণা ভোগের আশঙ্কা রয়েছে, তার নিজ দেশের বাইরে অবস্থান করছে এবং সে তার দেশের সুরক্ষা পেতে অনিচ্ছুক বা তার দেশ তাকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম বা যে ব্যক্তি যন্ত্রণা ভোগের আশঙ্কার কারণেই তার নিজ দেশে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক।’ ১৯৫১ সালের কনভেনশনে গৃহীত সংজ্ঞার এই দুর্বলতাও আছে। ১. গৃহীত এই সংজ্ঞাটিতে সার্বজনীনতার চেয়ে আঞ্চলিকতাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। সংজ্ঞাটি স্নায়ুযুদ্ধ ও ইউরোপকেন্দ্রিক জটিলতার ফল। এ সংজ্ঞায় টেকসই আশ্রয় ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, কিন্তু স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এতে উল্লেখ নেই। ২. এ সংজ্ঞায় দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে : (ক) প্রত্যাবাসন ও (খ) রাষ্ট্রীয় দায়, যেটা শরণার্থী প্রবাহ ঘটায়। ৩. শরণার্থীদের যন্ত্রণা ভোগের যে কারণগুলো সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে, তা খুব সীমিত। ৪. জীবন রক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকার। তাই খাদ্যসঙ্কটের কারণেও কেউ নিজেকে শরণার্থী হিসেবে দাবি করতে পারে। ৫. ওআইইউ কনভেনশন ১৯৬৯ সালে একটি আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সে চুক্তিতে শরণার্থীর এ সংজ্ঞার সাথে নি¤েœাক্ত বিষয়টিও যুক্ত করা হয়Ñ ‘যে ব্যক্তি কোনো বহিরাগত আগ্রাসন, পেশা, বিদেশী কর্তৃত্ব বা এমন কোনো ঘটনা যা তার দেশের সরকারের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ইত্যাদি কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়, সেও শরণার্থীর অন্তর্ভুক্ত হবে।’
আরো অনেক কারণ আমরা দেখতে পাই, যা সংজ্ঞায় স্থান পায়নি। শরণার্থী হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য কিছু উপাদান বাঞ্ছনীয় : ১. নিজ দেশ বা জাতীয়তার বাইরে অবস্থান করতে হবে। ২. তারা তাদের দেশের সুরক্ষার সুযোগ গ্রহণে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হতে হবে। ৩. এ ধরনের অক্ষমতা বা অনিচ্ছুকতা যন্ত্রণা ভোগের সুপ্রতিষ্ঠিত আশঙ্কার কারণে হতে হবে। ৪. উপাদানে যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তা অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে।
একজন সৈনিক বা অপরাধী শরণার্থী হতে পারে কি না। একজন শরণার্থী আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে গেলে সে কখনো শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সবার চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কোনো কার্যের অপরাধী তার পলায়ন অবস্থায় শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না। অর্থাৎ কোনো অরাজনৈতিক অপরাধী শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না; কিন্তু সাধারণ অপরাধের অপরাধী যদি রাজনৈতিক কারণে দেশ থেকে পালিয়ে বেড়ায়, তাহলে সে শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যদি কেউ অপরাধী হয় তাহলে অবশ্যই শরণার্থী হতে পারে। যুদ্ধাপরাধীর শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় লাভের প্রশ্নে বলা যায়, যে ব্যক্তি বা যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে বা গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে, তারা শরণার্থী বলে বিবেচিত হবে না। যদি অনেকের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের অপরাধী চিহ্নিত করা না যায় তাহলে UNHCR আন্তর্জাতিক সংগঠনের আশ্রয় নেবে এবং অন্য যেকোনো আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর আস্থাশীল থাকবে।
শরণার্থীদের প্রকারভেদ
Statutory Refugee বা বিধিবদ্ধ শরণার্থী : ১৯৫১ সালের কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১ ক (১) চ-তে নি¤েœাক্ত ব্যক্তিগণকে বিধিবদ্ধ শরণার্থী বলা হয়েছেÑ ক. ১৯২৬ সালের ১২ মে এবং ১৯২৮ সালের ৩০ জুনের অ্যারেঞ্জমেন্টের অধীনে যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খ. ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর ও ১৯৩৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির কনভেনশনে যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গ. ১৯৩৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রটোকল বা আইআরসির সংবিধান অনুযায়ী যাদের শরণার্থী ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
Mandate Refugee : ১৯৭৫ সাল থেকে সাধারণ পরিষদ, ECOSOC ও UNHCR-এর নির্বাহী কমিটি ইউরোপের বাইরের শরণার্থীদের অবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মানব গড়া ও প্রকৃতিপ্রদত্ত যেকোনো ধরনের ভিকটিমকে (যারা শরণার্থী) সাহায্য করার জন্য UNHCR-কে ক্ষমতা দেয়া হয়। তখন UNHCR কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যেকোনো ব্যক্তি সে ১৯৫১ সালের কনভেনশন অনুযায়ী শরণার্থী হোক বা না হোক, Mandate Refugee হিসেবে বিবেচিত হবে। Host Country তাকে স্বীকৃতি দেবে কি দিচ্ছে না, তা বিবেচ্য নয়।
Temporary Protection (অস্থায়ী সুরক্ষা)
অস্থায়ী সুরক্ষা হচ্ছে তাৎক্ষণিক ও অল্প মেয়াদি সুরক্ষা যে দেশে পলায়ন করা হয়েছে, সে দেশ কর্তৃক যা গৃহীত হয়। এ পালানো সশস্ত্র সঙ্ঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য কোনো যন্ত্রণা ভোগের কারণে হতে হবে। অস্থায়ী সুরক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে আশ্রয় নিশ্চিত করা। এটা করা হয়েছিল তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে পলায়নরত জনগণের জন্য। সাধারণত অস্থায়ী শরণার্থী বা সুরক্ষার চর্চা সীমিত সময়ের জন্য করা হয়, যাতে গ্রহণকারী রাষ্ট্রের ওপর তা বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। শরণার্থী অথবা আশ্রয় প্রার্থনাকারীর চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল অন্য রাষ্ট্র। যে দেশ অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো শরণার্থী গ্রহণ করে তাকে Country of First Refugee বলা হয়। অস্থায়ী সুরক্ষা নীতির অধীনে শরণার্থী বা আশ্রয় প্রার্থীর সীমিত অধিকার থাকে। প্রয়োজন ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে এ নীতি উদ্ভাবিত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো লাখ লাখ শরণার্থীর আশ্রয় মঞ্জুর করেছে। ১৯৬৯ সালের OAU কনভেনশনকে আফ্রিকার দেশগুলো আশ্রয় মঞ্জুরের জন্য আইনি ভিত্তি মনে করে।
Refugee Surplace
যে ব্যক্তি নিজস্ব কোনো বৈধ কারণে অন্য দেশে গমন করে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে অবস্থার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফিরে এলে তার যন্ত্রণাভোগের আশঙ্কা থাকে এবং এ কারণে যদি সে নিজ দেশে ফিরে আসতে না চায় বা তার দেশ তাকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে না চায়, তাকে Refugee Surplace বলা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি সে পূর্ববর্তী রাষ্ট্রে ফিরে যেতে না পারে এবং তা যদি যন্ত্রণাভোগের সুপ্রতিষ্ঠিত কারণে হয়, তাহলে সেও Refugee Surplace হবে।
Stateless Person বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি
যে ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে নাগরিকত্ব নেই, তিনিই রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি। তিনি কোনো দেশের কাছে নাগরিকত্ব দাবি করতে পারেন না। এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের কনভেনশনের আর্টিক্যাল ১-এ বর্ণিত আছে। Open Society Justice Initiative -এর নির্বাহী পরিচালক James Cold Stone রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘তারা চরম অবহেলিত মানবগোষ্ঠী। এ সমস্যা এখনো আছে এ কারণে যে, জাতিরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া বা কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে সীমাহীন স্ববিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে।’
জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিরা এমন বিস্মৃত বা অবহেলিত অবস্থায় আটকে আছে যে, তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো আইনি সুরক্ষাই (যেমনÑ স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি) পায় না। নানা কারণে রাষ্ট্রহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন আইনি জটিলতা, পিতা-মাতার নাগরিকত্ব না থাকলে সন্তানদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইনের জটিলতা, প্রশাসনিক জটিলতা, নাগরিকত্ব হারানো ও বাতিল কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতিসত্তা বিলোপ কিংবা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিলোপ ইত্যাদি।
মিয়ানমার সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর গণহত্যার শিকার হয়ে যারা জীবন বাঁচাতে ভিটেমাটি ও দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুহারা বিপন্ন, তাদের দেশে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাদের বলপূর্বক প্রত্যাবর্তন করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে, কারণ তাদের ‘পুশব্যাক’ করা মানে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। তাদের আশ্রয়লাভের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের এ মুহূর্তে এ বিপুল বাস্তুহারা লোকজনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে তারা সুরক্ষা পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ইত্যাদি সংক্রান্ত সঙ্কট সৃষ্টি না হয়। এতে শরণার্থীদের উপযুক্ত আইনি মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেয়া যাবে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ করা সম্ভব হবে। এতে শরণার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনসহ তাদের তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রে আশ্রয়সহায়তা প্রদান করা যায়। সংশ্লিষ্ট সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে অথবা ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় তারা প্রত্যাবাসন করতে চাইলে দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা এবং শরণার্থী পরিবারগুলোকে একত্রীকরণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইউনিসেফ বলছে, রোহিঙ্গাশিবিরে ১৩ শতাধিক শিশু অভিভাবকহীন। এদের অনেকের মা-বাবা আরাকানে সহিংসতায় নির্মম হত্যার শিকার, নয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘ বিপদসঙ্কুল পথ পেরিয়ে আসার সময় হারিয়ে গেছে। এদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশেষ দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। সরকারের উচিত, এ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতা বা জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় দ্রুত তাদের কান্ট্রি অব অরিজিন বা উৎস রাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো। যাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়, তাদের তৃতীয় দেশে অভিবাসনই একমাত্র সমাধান।
লেখক : আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

Post a Comment